শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

১ আষাঢ় ১৪৩১

শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
১ আষাঢ় ১৪৩১
সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ১৮২
আপনি পড়ছেন : মতামত

৫৯ বছর পর চালু হলো রাজশাহী – মুর্শিদাবাদ নৌপথ


রবি কিরণ সিংহ
2024-02-13 13:04:00
৫৯ বছর পর চালু হলো রাজশাহী – মুর্শিদাবাদ নৌপথ

বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদে নৌ পথের একটি রুট ৫৯ বছর পর আবারো চালু হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌপথটি উদ্বোধন করা হয়। 

সোমবার চালুর পর প্রথম দিনেই বাংলাদেশ থেকে ‘ সাইফ – সিয়াম - সাফি- ১’ নামে একটি কার্গো সাড়ে ১১ মেট্রিক টন গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় নিয়ে সুলতানগঞ্জ থেকে মায়াতে যায়। এছাড়া মায়া থেকে ১০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে ‘দেশবাংলা’ নামে একটি কার্গো সুলতানগঞ্জ এসে পৌঁছেছে।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে এই নৌ পথটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনা করে এ নৌ-পথ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

২০১৮ সালে দুই দেশের নৌ-সচিব পর্যায়ের একটি বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি নৌ-পথ নতুন করে চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২০ সালের যে চুক্তির আওতায় বাণিজ্য হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ – ভারত অভ্যন্তরীণ নৌ পথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকলে ২০২০ সালে একটি সংশোধনী এনে আবার চালু হলো রুটটি। সম্পূর্ণ রুটটি হবে আরিচা - রাজশাহী - গোদাগাড়ি - সুলতানগঞ্জ - মায়া - ধুলিয়ান। তবে, এখনই আরিচা পর্যন্ত চালু হচ্ছে না।

বাংলাদেশ অংশে রাজশাহী এবং গোদাগাড়ি বা সুলতানগঞ্জ এবং ভারতীয় অংশে মায়া এবং ধুলিয়ানকে নতুনভাবে পোর্ট অব কল হিসেবে ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। 'পোর্ট অব কল' হলো নৌবন্দর বা সমুদ্র বন্দর যেখানে থেমে জাহাজ বা নৌযান খাবার, তেল, পানি সংগ্রহ বা বিরতি দিতে পারে।

ফলে এই নৌপথ চালু হওয়ার পরে দুই দেশের সীমান্তে আসলে একটি নদী বন্দর তৈরি হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভেতরে সুলতানগঞ্জ আর ভারতের ভেতরে মায়া নদী বন্দরে পরিণত হবে।

রাজশাহী – চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা মহানন্দার মোহনায় সুলতানগঞ্জ নৌঘাট অবস্থিত। আর এই সুলতানগঞ্জ থেকে মায়া নৌঘাটের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। একই সাথে পদ্মা – মহানন্দার মোহনায় সারা বছরই পানি থাকে। ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মায়া থেকে সুলতানগঞ্জে পণ্যবাহী জাহাজ বা নৌ যানের সময় লাগবে এক ঘণ্টা। দুই দেশের দূরত্ব কমবে ১২০ কিলোমিটার।

“এই রুটে সারা বছরই স্বল্প নাব্যতার নৌযান দিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিচালনা করা সম্ভব” বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটি  কর্তৃপক্ষ।

যেসব পণ্য আমদানি – রপ্তানি হবে
এরই মধ্যে এই রুট ব্যবহার করে যেসব পণ্য আনা – নেয়া করা যাবে তার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এই রুটে ভারত থেকে গবাদি পশু, মাছের পোনা, তাজা ফলমূল, গাছ গাছড়া, বীজ, গম, পাথর, কয়লা, রাসায়নিক সার, চায়না ক্লে, কাঠ, টিম্বার, চুনাপাথর, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, আদাসহ ১৯ ধরনের পণ্য আমদানি করা হবে।

আর রপ্তানি করা যাবে সব ধরনের পণ্য।

বর্তমানে ভারত – বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে মোট আটটি নৌ পথ রয়েছে। নতুন এই নৌ পথসহ এর মধ্যে চালু রয়েছে আটটা পথ। তবে এর মধ্যে দুইটি রুটে নৌ যান চলাচল একেবারেই কম।