দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি তিনি চালাচ্ছিলেন। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। তবে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়- লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশন বিস্ফোরণে জড়িত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি বিস্ফোরণের আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পার্ক করা ছিল। দুপুর ৩টা ১৯ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত।
তদন্তকারীরা প্রকাশ করেছেন, বিস্ফোরণের আগে হুন্দাই আই২০ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোহাম্মদ উমর। সূত্র জানিয়েছে, মোহাম্মদ উমর ফারিদাবাদের ‘সন্ত্রাসবাদী চক্রে’র সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন এক ‘সন্ত্রাসী’।
তিনি ফারিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তে আরো জানা গেছে, উমর ঘনিষ্ঠ ছিলেন আদিল আহমেদ রাথারের সঙ্গে- যিনি অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (জিএমসি)-এর সাবেক সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার। রাথারকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার ফারিদাবাদে অভিযানে নামে নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা, যাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, গোয়েন্দা ব্যুরোর পরিচালক, জাতীয় তদন্ত সংস্থার মহাপরিচালক এবং দিল্লি পুলিশের কমিশনার। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অমিত শাহ।
সোমবার (১০ নভেম্বর) অমিত শাহ বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করার সময় জানান, তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করবেন। বিস্ফোরণের কারণ এখনো অজানা। তবে অমিত শাহ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তারা সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
দিল্লির লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি উত্তরের ডিসিপি রাজা বাঁথিয়া জানিয়েছেন আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট (ইউএপিএ) ও বিএনএস (ভারতীয় ন্যায় সংহিতার) অধীনে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিসিপি রাজা বাঁথিয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, বিবিসি